স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন কাম্য 03.07.2026

একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণ-আন্দোলনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, যা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জনপ্রতিনিধিদের কর্তব্য পালনে অবহেলা না করা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে জবাবদিহির আওতায় আসা বা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা আবশ্যক। রাজনীতিতে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের সততা, নৈতিকতা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে এবং রাষ্ট্র ও রাজনীতির সব স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে জনগণের কল্যাণমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নয়ন কর্মসূচি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে বাস্তবায়ন, সব সরকারি উন্নয়নকাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করা এবং সরকারি অর্থের তছরুপ, অপব্যবহার বা নীতিমালা লঙ্ঘন কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। মাদক, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, জুয়া এবং সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোতে নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। তরুণ-তরুণীদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।













